গণতন্ত্র মঞ্চ রংপুর জেলার আয়োজনে “প্রতিবাদী গণ অবস্থান”

Editor

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৩

 গণতন্ত্র মঞ্চ রংপুর জেলার আয়োজনে “প্রতিবাদী গণ অবস্থান”

রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ  ১১ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিঃ, সকাল ১০.৩০ হইতে দুপুর ২.০০টা, রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে “গণতন্ত্র মঞ্চ”, রংপুর জেলার আয়োজনে এক প্রতিবাদী “গণ অবস্থান” কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জেএসডি,  রংপুর জেলার সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি এর সভাপতিত্বে গণ অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, গণ অধিকার পরিষদের বিভাগীয় সমন্বয়ক হানিফ খান সজিব, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা, ইমরান আহমেদ,  গণঅধিকার আন্দোলনের সংগঠক আশিকুর রহমান, জেএসডি রংপুর মহানগরের নেতা এবিএম মশিউর রহমান,  সাদেক খান, নাগরিক ঐক্য রংপুর জেলার সভাপতি  জিএম রহমতুল্লাহ,  গণসংহতি আন্দোলন রংপুর জেলার সমন্বয়ক, তৌহিদুর রহমান,  রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রংপুর মহানগরের সমন্বয়ক, চিনু কবির, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রংপুর জেলার সদস্য এড. রায়হান কবীর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পঞ্চগড় জেলার সংগঠক মামুন হোসাইন প্রমুখ

গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা, গুলি করে হত্যা, নৃশংস হামলা, গণ হারে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে সরকার দেশকে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে দখলদার সরকারের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশের মানুষ জেগে উঠেছে।

অবৈধ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য বর্তমান সরকার নৃশংসতার সব সীমা অতিক্রম করেছে। পুলিশ এবং দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে তারা বিরোধী দলের নিরীহ নেতাকর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নৃশংস হামলা চালিয়ে সরকার ভয়াবহ, ভীতিকর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিরোধী নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করছে সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী।  এটি সরকারের চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। অবৈধ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দিশেহারা হয়ে সরকার গণ আন্দোলন দমনের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে।  গুলি করে মানুষ মেরে কোন স্বৈরাচার টিকতে পারেনি।  ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে; হত্যা, হামলা, গ্রেফতার করে তা ঠেকানো যাবে না।

বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা প্রীতম দাশসহ আমরা গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করছি। উস্কানিমূলক আচরণের মধ্যে দিয়ে সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে সরকারকে নিতে হবে।

বক্তারা বলেন, সভা, সমাবেশ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব সেই সভা, সমাবেশের নিরাপত্তা বিধান করা। অথচ তারা স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে সরকার দলীয় ক্যাডারদের সাথে নিয়ে জনগণের উপর হামলা করছে। আমরা হুশিয়ার করে বলতে চাই, প্রতিটি আঘাত, প্রতিটি হত্যার বিচার করা হবে। দেশের এই মহা সংকটময় মুহূর্তে গণতন্ত্র মঞ্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে দায়িত্বশীল এবং মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করে৷

বিগত ১৪ বছরের ভোট ডাকাতি, দুঃশাসন, দূর্নীতি, লুটপাটের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতাসীন সরকার দেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছে। তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের উপর হামলা করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে। দেশকে বাঁচাতে, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে এখনই জনগণকে সাথে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিকে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। গণতন্ত্র মঞ্চ মনে করে সরকারের বিরুদ্ধে সর্বব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলার এখনই সময়। আজকের গণ-অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরা দেশবাসীর প্রতি সেই আহবান জানাই।