বিয়ের দাবীতে দেবরের বাড়িতে অনশনে ভাবী

Editor

প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৩

বিয়ের দাবীতে দেবরের বাড়িতে অনশনে ভাবী

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর॥ কনকনে শীত উপেক্ষা করে ৭ দিন ধরে দেবরের বাড়িতে অনশন করছেন ভাবি। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর জেলা বদরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের মন্ডলপাড়া এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার ৫ জানুয়ারি দুপুর থেকে এ অনশন করছেন ভাবী ইভা।
বুধবার (১১ই জানুয়ারি) সরজমিনে দেখা যায়, দেবর নিতুনের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে গত সাত দিন থেকে একটি বিছানা বিছিয়ে ৯ বছরের শিশু তাহমিদ রহমান তাওহসিন কে নিয়ে বসে আছেন ইভা। ইভা বলেন, আমি আমার ছেলে কে নিয়ে সাত দিন থেকে খেয়ে না খেয়ে এখানে আছি। আমি কোন বিচার পাচ্ছি না।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেড় যুগ আগে ঠাকুরগাঁ জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ইদ্রিস আলীর মেয়ে ইভার সাথে প্রেম করে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় বদরগঞ্জ পৌর শহরের মন্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র মোস্তাফিজার এর সাথে। মোস্তাফিজার দম্পতির ঘরে নয় বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে তাদের। সংসার করাকালীন সময় মোস্তাফিজারের স্ত্রী ইভার প্রতি কুনজর পড়ে তার দেবর নিতুনের। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দেবর নিতুন ভাবি ইভাকে একাধিক বার আপত্তিকর এসএমএস দেয়। তার ওইসব আপত্তিকর এসএমএসে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল ইভা। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি ইভার দেবর নিতুন। নানাভাবে ভাবিকে কু প্রস্তাব দিতে থাকে।
ঘটনাটি শাশুড়ি আচঁ করতে পেরে তার ছেলে মোস্তাফিজার কে ঘটনাটি জানায়। ঘটনা জানার পরপরই ইভা কে বাবার বাড়ি ঠাকুরগাঁও পাঠিয়ে দেয় স্বামী মোস্তাফিজার রহমান। সেখানে দু’বছর অবস্থান করার পর গত বৃহস্পতিবার ৫ জানুয়ারি গৃহবধূ ইভা দুপুরের দিকে দেবর নিতুনের বাসার সামনে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসে। বিয়ের দাবিতে অনশনরত ইভা সাংবাদিকদের জানান আমার সংসার ভেঙ্গেছে আমার দেবর নিতুন, সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি এখানেই আত্মহত্যা করব।
এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই নিতুনের বাড়িতে ভিড় জমান এলাকাবাসী।
এ নিয়ে দেবর নিতুনের সঙ্গে কথা বললে সে বলেন, ভাবি গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে আমার বাড়িতে চলে আসেন এবং তাকে বিয়ে করতে বলেন। অথচ আমি তাকে মায়ের চোখে দেখি। ভাবি আমার ১০ বছরের বড়। কার উস্কানিতে, কেন হঠাৎ করে আমার বাড়িতে আসছেন আমি জানিনা। আমি বিবাহিত, আমার একটি বাচ্চাও রয়েছে। আমি কি করে ওনাকে বিয়ে করবো। ভাবিকে চলে যেতে বললে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। তাই আমরা বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় আছি।

মুঠোফোনে ইভার স্বামী মোস্তাফিজার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২-৩ বছর আগে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে। এ নিয়ে ইভা ও তার পরিবার একটি মামলা করেছে। এখন আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এ বিষয় নিয়ে আর কোন কথা বলতে চাই না।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ইভা নামের এক নারী আমাদের থানায় দেবরের বিরুদ্ধে এসএমএস বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন। আমরা অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাচাই করছি। তাছাড়া সরেজমিনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।