ছি: ছি: ইউসিসি কোচিং সেন্টার

Editor

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৩

ছি: ছি: ইউসিসি কোচিং সেন্টার

রংপুর অফিস

উচ্চ মাধমিক পাশের পর বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের শতভাগ ভরসা এখন কোচিং সেন্টার। আর সেই সুযোগে রংপুর নগরীর যত্রতত্র বড় বড় ভবনে সাইনবোর্ড ঝোলানোসহ আকর্ষনীয় পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার সাঁটিয়ে কোচিং সেন্টার খুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। আর এমন অভিযোগ রয়েছে বিশেষ করে বিশ^বিদ্যালয় ভর্তি কোচিং হিসেবে পরিচিত ইউসিসি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ওই কোচিং সেন্টারের দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে রংপুর নগরীতে। একটি চেকপোস্ট এলাকায়, অপরটি নগরীর শাপলায়। ভর্তির সময় নানা সুযোগ-সুবিধার কথা বলে শিক্ষার্থী প্রতি ১৬ হাজার টাকা নেওয়া হলেও মুলত তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ১ জানুয়ারি থেকে ক্লাশ শুরু হলেও প্রত্যেক দিন বা প্রত্যেক সপ্তাহে যে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল তার কোনটিই হয়নি। ঠিকমত ক্লাশ হয়না, নেই মানসম্মত শিক্ষক। নিজেদের ইচ্ছামত ক্লাশের সময় পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা যে অন্যখানে প্রাইভেট পড়েন তার ব্যাঘাত ঘটছে। চেকপোস্ট ক্যাম্পাসে ছেলে-মেয়েদের আলাদা ব্যাচ করার কথা থাকলেও গত দু’মাসে তা করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের ঘিঞ্জি পরিবেশে কিংবা কখনো দাঁড়িয়ে ক্লাশ করতে হয়। এছাড়া কর্তৃপক্ষের দুর্বলতার কারণে ঘাটতি হওয়া ক্লাশ কাভার করতে শিক্ষার্থীদের চেকপোস্ট ক্যাম্পাস থেকে পাঁচ কিলোমিটার দুরের শাপলাস্থ ক্যাম্পাসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব নানান অগোছালো কর্মকান্ডের কারণে টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা ইউসিসি কোচিং ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। ক্রমান্বয়ে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার। তাদের অভিযোগ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে ইউসিসি।

ইউসিসি কোচিং সেন্টারের রংপুর চেকপোস্ট ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী শাকিলা জামান, সাফিয়া সিদ্দিকা ও আবু সায়েম জানান, একই সময়ে ক্লাশ শুরু হলেও অন্য কোচিংগুলোতে যেখানে আটটি লেকচার সম্পন্ন হয়েছে সেখানে ইউসিসিতে এখনো পাঁচটি লেকচারও সম্পন্ন হয়নি। ঢাকা থেকে পরিচালিত বলা হলেও এখানে মানসম্মত শিক্ষক নেই। অবস্থা বুজতে পেরে ইউসিসি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। রোদেলা ও স্মরণী নামের দুই শিক্ষার্থী বলেন, বাড়ি থেকে কাছাকাছি হওয়ায় আমরা চেকপোস্ট ক্যাম্পাসে ভর্তি হই। কিন্তু পিছিয়ে পড়া ক্লাশ সমন্বয় করতে পাঁচ কিলোমিটার দুরের শাপলাস্থ ক্যাম্পাসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময় স্বল্পতার কারণে সেখানে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আল মামুন ও শিহাব নামের অপর দুই শিক্ষার্থী বলেন, ভালো বিশ^বিদ্যালয়ে সুযোগ পেতে কোচিংয়ে ভর্তির পাশাপাশি আমরা বিভিন্নস্থানে স্যারদের কাছে বিষয়ভিত্তিক প্রাইভেট পড়ি। কোচিং কর্তৃপক্ষের ইচ্ছামত ক্লাশের সময় পরিবর্তনের ফলে প্রাইভেটগুলোতে ব্যাঘাত ঘটছে। তারা জানান, প্রতারণার খপ্পরে পড়ে ইউসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা।

এ ব্যপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুরস্থ ইউসিসি কোচিং সেন্টারের পরিচালক জোবায়ের হোসেন সাগর শিক্ষার্থীদের কিছু কিছু অভিযোগ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ের শিক্ষকের পরীক্ষা থাকায় ক্লাশ কিছুটা পিছিয়েছে, যদিও সেটা সমন্বয় করা হচ্ছে। কিছু শিক্ষক ঢাকা থেকে এসে ক্লাশ নেন। সে কারণে সময়েরও কিছুটা হেরফের হয়। রংপুরের দুটি ক্যাম্পাসে এক হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতারণা নয়-সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে সুষ্ঠু পাঠদানের চেষ্টা করে ইউসিসি। এখন প্রতি ক্লাশ আড়াই ঘন্টার পাশাপাশি ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।