কাউনিয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করছে কমিউনিটি ক্লিনিক
মো:সাইফুল ইসলাম
কাউনিয়া(রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের কাউনিয়ায় জনগনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে কাজ করছে কমিউনিটি ক্লিনিক। উপজেলায় বর্তমানে ২০ কমিউনিটি ক্লিনিক একযোগে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল কমিউনিটি ক্লিনিক। গ্রামীণ জনপদের প্রতি ৬ হাজার অধিবাসীর জন্য স্থাপন করা হয়েছে এক একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। তিস্তা নদী বেষ্ঠিত এ জনপদের মানুষের সাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। যা চরাঞ্চল সহ আশেপাশের মানুষের সাস্থ্য সেবায় অনেক ভুমিকা পালন করছে। আগে বন্যা পরবর্তী সময়ে সাস্থ্য সেবা পেতে তাদের অনেক সমস্যা হয়েছিল কিন্তু বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের ধারায় কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের ফলে দুর্গম এলাকা ও চরাঞ্চলের নারী, পুরুষেরাও এখন হাতের কাছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন। যার সুফল ভোগ করছেন গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ।
কমিউনিটি ক্লিনিক বর্তমান সরকারে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি। ১৯৯৬ সালে প্রথম মেয়াদে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প গ্রহণ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ২০০১ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন এবং প্রায় ৮ হাজার ক্লিনিক চালু করেন।
কিন্তু ২০০১ সালে পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প বন্ধ করে দেয় এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত এসব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ ছিল। পরবর্তিতে ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প চালু করেন। এ সময়ে ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার-সিএইচসিপি নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বন্ধ ক্লিনিকগুলো চালু করা হয়। ক্লিনিকের ব্যবহার অযোগ্য ভবনগুলো মেরামত বা পুনর্র্নিমাণ এবং নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সারা দেশে পল্লী অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করে আসছে।
কাউনিয়া উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায় কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডাররা শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন কমিউনিটি ক্লিনিকে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকনে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রজনন স্বাস্থ্য পরিচর্যার আওতায় অন্তঃসত্বা নারীদের প্রসব-পূর্ব প্রতিষেধক টিকাদানসহ প্রসব-পরবর্তী সময়ে নবজাতকসহ মাকেও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকে যক্ষ্যা, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর,ডায়রিয়াসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের সীমিত চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। উপজেলায় ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্লিনিকে এ চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য নিয়োজিত আছেন ৩ জন হেলথকেয়ার প্রোভাইডার। একজন হেলথ প্রোভাইডার সার্বক্ষণিক, একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী সপ্তাহে ৩ দিন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন।
এদিকে গদাই কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আশা মোছাঃ আয়শা বেগম জানান এখন আমাদের আর হাসপাতালে যেতে হয় না। বাড়ির কাছেই ক্লিনিক। কোন সমস্যা হলে আপাকে বললে আপা ছুটে আসেন বাড়িতে। জব্বার আলী জানান হামরা তিস্তা নদী এলাকার লোক চরের মধ্যে থাকি আগে ছোটখাটো সমস্যায় পড়লেও কাউনিয়া মেডিকেল যাওয়া লাগছিল কিন্তু এলা হামার এ্যাটে কমিউনিটি ক্লিনিক হওয়ায় মেলা ঔষদ পাই। মোঃ আলমগীর হোসেন জানান আমার স্ত্রী গর্ভবতী, তার গর্ভকালীন সময়ের সব সেবাই আমী এই ক্লিনিক থেকে পেয়েছি। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা পয়ে খুশি এলাকার জনগন।
গদাই কমিউনিটি ক্লিনিকের সি এইস সি পি মোছঃ মৌসুমী বেগম জানান প্রায় ২৭ প্রকারের ঔষদ সরকারীভাবে বিনামুল্যে বিতরণ করা হয় আমাদের এখান থেকে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অনেক কাজে লাগে। সাস্থ্য পরিদর্শক প্রিয়তোষ ভট্টাচার্জ্য জানান প্রতি সপ্তাহেই আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো পরির্দশন করে থাকি কোথাও কোন সমস্যা থাকলে তাৎখনিক তা র্কতৃপক্ষ্যকে জানাই।
কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িক্তে থাকা রোগ নিয়ন্ত্রন মেডিকেল অফিসার ডা.সাব্বির আহম্মেদ জানান আমরা প্রতিদিন কোন না কোন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে থাকি। প্রতিটি ক্লিনিকে গিয়ে সাস্থ্য সেবার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে নরমাল ডেলিভারীর চালু করা হবে। যাতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মায়েদের ডেরিভারীর পড়ে প্রসব কালীন সেবা গুলো কমিউনিটি ক্লিনিকেই দেয়া সম্ভব হবে।
এ দিকে কমিউনিটি ক্লিনিক বিষয়ে জানতে চাইলে কাউনিয়া উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সাদিকাতুল তাহেরিন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছেন তারই সফল পদক্ষেপ হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। এখানে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,কোন ভেদাভেদ নেই, এই স্বাস্থ্য সেবা বিনা পয়সায় সবাই নিয়ে থাকেন। কমিউনিটি হেলথ সেন্টার গুলোর কারনে দুগর্ম এলাকার মানুষরা সঠিক সেবা পাচ্ছে। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোর কার্যক্রম চালু হওয়ায় হাসপাতালে রোগীর ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আমরা জনগনের দোরগোরায় সাস্থ্য সেবা পৌছে দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।



