বেনসনের প্যাকেটের গায়ে ৩৭০ হলেও পাইকারি ৪২০ টাকা: ক্রেতা বিক্রেতাদের ক্ষোভ
বেনসনের প্যাকেটের গায়ে ৩৭০ হলেও পাইকারি ৪২০ টাকা: ক্রেতা বিক্রেতাদের ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারে বহুল বিক্রিত সিগারেট ব্র্যান্ড ‘বেনসন সিগারেটের দাম নিয়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন অসঙ্গতি। সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে ৩৭০ টাকা লেখা থাকলেও পাইকারি বাজারেই তা বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়! প্রতি প্যাকেটেই ৫০ টাকা বেশি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা ক্রেতাদের পকেটে। শুধু তাই ড্যামেজ শলাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ধুমপায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বিক্রেতারা এক প্যাকেট বেনসন ৩৭০ টাকার নির্ধারিত মূল্যের জায়গায় বিক্রি করছেন ৪২০ টাকায়। ফলে খুচরা দোকানদারদের বাধ্য হয়ে প্রতি শলাকা সিগারেট ২৩ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি সিগারেট কেনার সময় গ্রাহকদের সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের বাকবিতণ্ডা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বেনসন সিগারেট এখন ড্যামেজ পাওয়া যাচ্ছে হরহামেশাই। এ নিয়ে ক্রেতারা প্রশ্ন তুলছে, এখন কি তাহলে বাজারে নকল বেনসন সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সাধারণ ধূমপায়ীরা বলছেন, প্যাকেটে উল্লেখিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা ভোক্তা অধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্যাকেটের গায়ের দাম ৩৭০ টাকা লেখা দেখে দোকানদারকে সেই হিসাব দিতে গেলে তারা ঝগড়া বাঁধিয়ে দেয়। যদি কোম্পানিই দাম বাড়িয়ে থাকে, তবে প্যাকেটে কেন আগের দাম লেখা থাকবে?”
আব্দুল হাকিম নামের এক ধুমপায়ী বলেন, এখন প্রায় দোকানের বেনসন সিগারেট ড্যামেজ। ২৩ টাকা দিয়ে সিগারেট কিনে ড্যামেজ সিগারেট কে পান করবে। এই জন্য অন্য ব্রান্ডের সিগারেট পানের কথা ভাবছি। একই কথা জানান, মোন্নাফ নামের এক তরুণ ধুমপায়ী।
এক মেহববুব নামে এক দোকানদার বলেন, “আমরা পাইকারি বাজার থেকেই প্রতি প্যাকেট ৪২০ টাকায় কিনছি। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি শলাকা ২৩ টাকায় না বেচলে আমাদের লোকসান হয়। কিন্তু গায়ের দাম দেখে কাস্টমাররা আমাদের গালাগাল করে।
স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, সাপ্লাই চেইনে পরিবেশক ও কোম্পানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। বাজার সমন্বয় বা নতুন মূল্যের প্যাকেট সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম জানান, ভোক্তা কোন পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতারিত হলে অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানা ছিলো না। এটি নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে ধুমপায়ীসহ ক্রেতারা গায়ের দাম ও বিক্রয়মূল্যের এই বিশাল গরমিল অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন। কোনো পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেলে তা প্যাকেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি পাইকারি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
এ বিষয়ে বেনসন সিগারেটের দায়িত্বে থাকা টেরিটরি অফিসার কে ফোন দিলে তিনি রং নাম্বার বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তিতে যাছাই করে দেখা যায়, নাম্বারটি রং নাম্বার নয়। বরং নাম্বারটি টেরিটরি অফিসারের।

















