লাইফ সাপোর্টে মেধাবী রোজান, সন্তানের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক: একজন বাবার কাছে সন্তানের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই। সেই সন্তান যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন অসহায় হয়ে কেবল অপেক্ষা আর প্রার্থনাই যেন ভরসা। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের ১৮ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজুল ইসলাম রোজান এখন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ছেলের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নির্ঝর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী রোজান। পড়াশোনার পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও ছিল তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একই সময়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর—বিএনসিসির ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন রোজান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এইচএসসি পরীক্ষার শেষ সময়ে পড়াশোনা ও ফলাফল নিয়ে বাড়তি মানসিক চাপে ছিলেন রোজান। চার দিন আগে ব্যবহারিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে মিরপুর-১১-এর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয় তাঁকে।
সাজ্জাদুল মিরাজ জানান, রোজান বরাবরই পড়াশোনায় ভালো ছিল। ভালো ফলাফল করার বিষয়ে নিজের ওপরই অনেক চাপ তৈরি করেছিল সে। কয়েকটি পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। তবে একটি পরীক্ষা জীবনের সবকিছু নির্ধারণ করে না—পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে রোজানের শরীরে একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। রক্তে শর্করা, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র, সোডিয়াম, রক্তচাপ, হিমোগ্লোবিন ও ফুসফুসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের একটি বোর্ড তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে রোজানের সুস্থতা কামনায় স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় দোয়া, মিলাদ, কোরআন খতম ও সদকার আয়োজন করা হচ্ছে। হাসপাতালের বাইরেও অনেকে রাত জেগে অপেক্ষা করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিভিন্ন কাজে পরিবারকে সহযোগিতা করছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, ‘রোজান শুধু আমার সন্তান নয়, ছোটবেলা থেকেই অনেক মানুষের আদর-ভালোবাসায় বড় হয়েছে। আজ তার জন্য মানুষের যে ভালোবাসা ও দোয়া দেখছি, একজন বাবা হিসেবে এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘সন্তানের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে একজন বাবার কাছে পদ-পদবি বা ক্ষমতার কোনো মূল্য থাকে না। মানুষের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসাই তখন সবচেয়ে বড় শক্তি।’
রোজানের বাবা আরো জানান, তাঁর ছেলে নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে বিএনসিসির ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন মেধাবী, পরিশ্রমী ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণের এমন আকস্মিক অসুস্থতা পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রেখে রোজান দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা পরিবারের। একই সঙ্গে তাঁর জন্য দেশবাসীসহ সবার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চেয়েছেন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ।


