কাউনিয়ায় তীব্র তিস্তা নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে , গ্রামটা এবার টিকবার নয়
মো:সাইফুল ইসলাম: দুই বছরের ব্যবধানে ফজর আলীকে (৭৩) তিনবার তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে বসতভিটা সরিয়ে নিতে হয়েছে। এই দুই বছরে তাঁর সব আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তাঁর কোনো আবাদি জমি নেই। নতুন করে নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঘরবাড়ি ভেঙে বাধের উপরে বসত গড়তে ছুটে যাচ্ছেন।
রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তার তীরবর্তী গ্রামের
বাসিন্দাদের, ইতিমধ্যে ভাঙ্গনে উপজেলার পাঁচটি গ্রামের অনেক বসতভিটা ও ফসলি জমি আর গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে উপজেলার পাঞ্চরভাঙ্গা, ঢুষমারা, আরাজী হরিশ্বর, চরহয়বৎখাঁ, চরগনাই গ্রামের প্রায় হাজার পরিবার রয়েছে হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙ্গনের ভয় আর উৎকন্ঠায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবারের মানুষেরা। গতকাল রাত থেকে তিস্তার কড়াল গ্রাসে পাঞ্জরভাঙ্গা ঢুষমারা, তালুকশাহাবাজ গ্রামের অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি, বাশঝাঁড়, গাছপালা ও স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কে কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষের।
পাঞ্জরভাঙ্গা একলার শফিকুল বলেন, প্রতি রাতেই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে। তিস্তা নদী পাড়ের ফজর আলীর মতো রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, চরগনাই, হয়বত খাঁ, আজম খাঁ, চর বিশ্বনাথ গ্রামের তিস্তা নদী তীরবর্তী সবাই একই আতঙ্কে ভুগছেন। মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত ঐ গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙনের আতঙ্কে কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ গাছ কাটছেন।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিদুল হক জানান, ইতিমধ্যেই আমরা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। কাউনিয়া পীরগাছা এলাকার মাননীয় এমপি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী টিপু মুন্সী ভাঙ্গন মোকাবেলার জন্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বরাবরে একটি ডিও লেটার প্রদান করেছেন ভাঙ্গন মোকাবেলায় অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে,রংপুর পাউবোর বোর্ড কর্মকর্তারা আশ্বাস প্রদান করেছেন।



