পুলিশের ফরমায়েশি মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির আল্টিমেটাম
রংপুর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে পুলিশের উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা ও ফরমায়েশি মামলা প্রত্যাহারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে
রংপুর অচলের হুমকি দিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
রংপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফসার আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে গত মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রংপুর জেলা বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত বিকাল ৪ টায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল পালন করে। উক্ত বিক্ষোভ মিছিল পালন করার জন্য রংপুর শহরের শাপলা চত্বরে রংপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে শাপলা চত্বর হতে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের অভিমুখে রওনা হয়। পথিমধ্যে শ্যালো মার্কোর্টের সামনে পুলিশ বেরিকেড দিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিলটিকে বাধা দেয়। নেতৃবৃন্দ পুলিশকে আশ্বস্তসহ অনুরোধ করে শান্তিপূর্ণ মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে ঢুকে সমাপ্ত করবে বলে জানালেও পুলিশ কোনো কথা না শুনে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ ও রাইফেলের বাট দিয়ে মারধর শুরু করে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে কেউ দলীয় কার্যালয়ে আবার কেউ বাইরে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে। কিন্তু পুলিশ মারমুখী অবস্থায় দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে নেতাকর্মীদের আবারও মারধর শুরু করে। এদের মধ্যে আনিছুল মন্ডল ও রাশেদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায় এবং আরও অনেকে আহত হন।
আফসার আলী বলেন, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম গত ২২ নভেম্বর তার এক নিকটাত্মীয়ের হার্ট অপারেশন ও ব্যবসায়ীক কাজে ঢাকায় অবস্থান করলেও তাকেসহ ১৮ জনকে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়েছে পুলিশ।
শান্তিপূর্ণ মিছিলটিকে বাধাগ্রস্ত করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে লাঠিচার্জসহ মারধর করাটা সন্দেহজনক। পুলিশের দাবি মতে, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ একটি মনগড়া কাহিনী মাত্র। পুলিশের দায়েরকৃত মামলার ধারার সাথে ঘটনার বর্ণনা সাংঘর্ষিক। কাজেই উক্ত মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা বানোয়াট ও ফরমায়েশি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি প্রত্যাহার করা না হলে মঙ্গলবার থেকে প্রতি উপজেলায় মানববন্ধন, পৌরসভা ও জেলায় প্রতিবাদ সভাসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রংপুর অচল করে দেওয়া হবে।
এসময় জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।