রংপুরে জেল থেকে বেরিয়েই মামলার বাদী ও স্বাক্ষীর উপর হামলা

Editor

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২৩

রংপুরে জেল থেকে বেরিয়েই মামলার বাদী ও স্বাক্ষীর উপর হামলা

বাদী ও স্বাক্ষী হওয়ার জেরে জেল থেকে বেড়িয়েই কোপালেন সেই মামলার স্বাক্ষী ও বাদীকে । ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর তাজহাট থানার স্টেশন রোডস্থ বাবুপাড়ায়। এ ঘটনায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন গুরুতর আহত মামলার স্বাক্ষী জোয়াদ খান তুফান নামের এক শ্রমিক নেতা।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ঘন্টার প্রতিকী কর্মবিরতী পালন করে রংপুর বিভাগীয় দাহ্য পদার্থ বহনকারী ট্যাংকলরী শ্রমিকরা।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরীর তাজহাট থানাধীন স্টেশন রোডস্থ বাবুপাড়া এলাকাবাসী ইউসুফের কাছে একই এলাকার শাকিল (৪৫) গত দুই বছর আগে দুই লক্ষ চৌদ্দ হাজার টাকা ধার নেন। ধারের টাকা ফেরত চাইলে কালক্ষেপন করতে থাকেন শাকিল। গত মার্চ মাসের ২৭ তারিখে রংপুর বিভাগীয় দাহ্য পদার্থ বহনকারী ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নে টাকা দেয়ার জন্য ডাকে শাকিল। সন্ধ্যায় দু-গ্রুপ একত্রিত হলে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলাউল মিয়া (লাল্লু) হাতাহাতির মাঝে এগিয়ে আসলে শাকিলের নির্দেশে একই এলাকার ঈশা, রাজন, মুসা, ভলু, রাকিব লাঠি, সোঠা নিয়ে ইউসুফ ও আলাউলের উপর হামলা চালায় এবং ইউনিয়নের চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে। হামলার সময় অন্যান্য লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা হুমকি, ধামকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলাউল মিয়া বাদি হয়ে তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় পুলিশ ঈশাকে গ্রেফতার করে। ঈদের কয়েকদিন আগে জামিনে বের হন ঈশা। মামলার বাদী হওয়ায় এবং স্বাক্ষী হওয়ায় পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুরে আচমকা শাকিলবাহিনী হামলা চালায়। এতে সাধারণ সম্পাদক আলাউল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক জোয়াদ খান তুফান ও সাধারণ সম্পাদকের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত জীবন গুরুতর আহত হয়, এতে করে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে তিনজনরেই জখম হয়। বর্তমানে তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলার ১৫ নং ওয়ার্ড ভর্তি করে, তার সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে দপ্তর সম্পাদক জোয়াদ খান তুফানের অবস্থা আশংকা জনক।

এ ঘটনায় দুই ঘন্টার প্রতিকী কর্মবিরতীর ডাক দেয় রংপুর বিভাগীয় দাহ্য পদার্থ বহনকারী ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করেন। পরে ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার শাহাদত হোসেন পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলে দোষিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস প্রদান করেন। সেই আশ^াসে দুই ঘন্টার প্রতিকী কর্মবিরতী প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিকরা। পরে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিক হোসেন (মংলা)’র সভাপতিত্বে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইদ্রিস আলী, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত হোসেন, উপদেষ্টা সাইদ পারভেজ, নাসিম আহমেদ সনু। অবিলম্বে দোষিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিবেন বলে জানান নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যপারে তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম নাজমুল কাদের বলেন, আগের মামলা পেয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো, এবারের ঘটনায় কেউ এখনো মামলা করেনি। মামলা হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।