রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে পরিকল্পিত নগরীর গড়ার প্রত্যয় রসিকের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের
রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে গিয়ে শতবছরের জন্য পরিকল্পিত ও বসবাস যোগ্য নগরী গঠনে এক সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত
করেছেন আসন্ন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। শনিবার(২২ অক্টোবর) দুপুরে এফপিএবি মিলনায়তনে সিটি প্রেসক্লাব রংপুর আয়োজিত “পরিকল্পিত নগর উন্নয়নে মেয়র প্রার্থীদের ভাবনা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা। গোল টেবিলে বৈঠকে সিটি প্রেসক্লাব রংপুরের সভাপতি স্বপন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ
রেজাউল করিম জীবন ও সাহিত্য সম্পাদক জাকির আহমেদের সঞ্চালনায় শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন বর্তমান মেয়র ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (জাপা), সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সাফিউর রহমান সফি (আওয়ামী লীগ), তুষার কান্তি মন্ডল (আওয়ামী লীগ), এম এ মজিদ (আওয়ামী লীগ), কাওছার জামান বাবলা (বিএনপি) ও ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন (স্বতন্ত্র প্রার্থী)।
গোলটেবিল বৈঠকে রসিক নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা যা বলেন:
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (জাপা)
পরিকল্পিত নগরীর পূর্ব শর্ত হলো মাষ্টারপ্ল্যান। এখনও এটি মন্ত্রনালয় থেকে পাশ হয়ে আসেনি। ভবিষ্যতে মাষ্টারপ্ল্যান অনুষায়ী রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে সাজাতে চাই। রংপুরের ৩৩ টি ওয়ার্ডে আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মান করে নাগরিকের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবো। রংপুর সিটি কর্পোরেশনে স্কিলড লোকবল বাড়িয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাজের গতি বাড়াতে চাই যাতে নাগরিক সেবার মান সুনিশ্চিত করতে পারি। শ্যামাসুন্দরী প্রজেক্ট অনুমোদন হলে তা বাস্তবায়ন করবো। নগরীর উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে একসাথে কাজ কওে রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে আরো এগিয়ে নিতে চাই।

সাফিউর রহমান সফি (আওয়ামীলীগ)
রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে পরিপাটি নগর হিসেবে গড়তে জনগণ কি কি সুবিধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তা নির্ণয় করে সমাধান করবো। দিন দিন মানুষ বাড়ছে, দালান-কোঠা নির্মান হচ্ছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য বহিরাগতরা আগমন করছে। সেজন্য পরিকল্পিত নগরায়ন গড়তে হবে। রংপুরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ১০০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে সুসজ্জিত মডেল নগরী গড়তে চাই। শ্যামাসুন্দরী খাল উদ্ধার ও ঘাঘট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। গৃহস্থালী বর্জ্য দিয়ে জৈব সার তৈরীর উদ্যোগ করতে চাই এবং ব্যবহৃত পলিথিনকে ব্যবহার করে নতুন প্লাষ্টিক সামগ্রী তৈরী করা সম্ভব। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা দূর করতে চাই।

তুষার কান্তি মন্ডল (আওয়ামীলীগ)
দূর্নীতি মুক্ত রংপুর সিটি কর্পোরেশন উপহার দিতে চাই। সেই সাথে বেকার সমস্যা দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। রাজশাহীর তুলনায় আমাদের রংপুরে বিশ^বিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম। তাই রংপুরে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে প্রধান শেখ হাসিনার কাছ থেকে দাবী করে আদায় করে এসব নেবো। আমার মনের রং মাধুরী মিশিয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে সাজাতে চাই।

এম এ মজিদ (আওয়ামীলীগ)
আমি জনগনের জন্য রাজনীতি করি। আমাকে জনগন ভালোবেসে নির্বাচিত করলে আমি প্রথমেই দূর্নীতিমুক্ত রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্মাণ করবো। এজন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমি এটাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। এছাড়াও রংপুরের ৩৩ টি ওয়ার্ডকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। সাংবাদিকরা দেশের প্রাণ, জাতির বিবেক। রংপুরের সাংবাদিকদের জন্য রংপুরে ৩ তলা ভবনবিশিষ্ট মিডিয়া সেন্টার নির্মান করবো। রংপুরে গ্যাস এনে শিল্পনগরী নির্মান করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা দূর করবো।

কাওছার জামান বাবলা (বিএনপি)
দূর্নীতিমুক্ত সিটি কর্পোরেশন উপহার দিতে চাই। রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানী থেকে কাচারী বাজার পর্যন্ত যানজটে জনগনের প্রতিদিন নাভিশ^াস উঠছে। আমি নির্বাচিত হলে সড়ক লোড ক্যাপাসিটি বাস্তবায়নে অটোরিকশার ওভারলোড প্রথমে কমিয়ে দিবো। পরিকল্পনা সুষ্ঠু হলে সুপরিকল্পিত নগর উন্নয়ন সম্ভব। আমি টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়তে করতে চাই।

লতিফুর রহমান মিলন (স্বতন্ত্র)
রংপুরে কৃষিভিত্তিক শিল্পনগরী গড়তে চাই। শহরতলীর মানুষগুলো কাবিখা, কাবিটার মতো সরকারী সাহায্য বঞ্চিত। তাই তারা বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছে। যদি কৃষিভিত্তিক শিল্পনগরী তৈরী করা যায় তাহলে একটি যুবক অটোচালক না চালিয়ে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক টেবিলে বসে রসিকে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের উপায় খুজতে হবে।

গোলটেেিবল সর্বোপরি নগরীর উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এসময় রংপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য ২০১২ সালে রংপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা হয়। রংপুর সিটির আয়তন ২০৫.৭০ বর্গকি:মি:। ৩৩ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিটি কর্পোরেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫৬ জন।



