মামলা, কারাবরণ আর নির্বাসনের গল্প পেরিয়ে আলোচনায় যুবদল নেতা সাজ্জাদুল মিরাজ
স্টাফ রিপোর্টার: রাজনীতির পথ কখনও সহজ নয়। এই পথে থাকে ত্যাগ, নির্যাতন, আত্মগোপন, কারাবরণ আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা। কেউ সেই বাস্তবতায় হারিয়ে যান, আবার কেউ সংগ্রামকে সঙ্গী করেই হয়ে ওঠেন আলোচিত এক নাম। তেমনই এক রাজনৈতিক চরিত্র ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। যার রাজনৈতিক জীবনজুড়ে রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ এবং দীর্ঘ নির্বাসনের গল্প। ১৯৯৫ সালে ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করেন সাজ্জাদুল মিরাজ। ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে মিরপুর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে প্রার্থী হন। তবে সে সময়কার রাজনৈতিক অস্থিরতায় নির্বাচনের পর আর কমিটি গঠন হয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিকভাবে টার্গেটের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে তার অনুসারীদের। তাদের দাবি, সে সময় সারা দেশে “ধরিয়ে দিন” পোস্টার লাগানো হয় তাকে ঘিরে। শুরু হয় আত্মগোপনের জীবন। একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন তিনি। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি সাজ্জাদুল মিরাজের। নির্বাসনের জীবনেও দলীয় কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রাখেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা সহজ হয়নি। দলীয় অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতা ও পরিস্থিতির কারণে দেশে ফেরা বিলম্বিত হয়। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ এই পথচলায় ব্যক্তিগত ক্ষতিও কম নয়। মায়ের মৃত্যু কিংবা ভাইয়ের মৃত্যুর সময় শেষ বিদায়ে পাশে থাকতে পারেননি তিনি। রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন সন্তানের মায়ের লাশ দেখতে না পারা কিংবা ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে না পারার বেদনা আজও বহন করছেন বলে ঘনিষ্ঠদের কাছে জানিয়েছেন তিনি। এরপর আসে ওয়ান-ইলেভেনের সময়। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরেন সাজ্জাদুল মিরাজ। তবে দেশে ফেরার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। কারাগারে কাটাতে হয় প্রায় তিন মাস। কারামুক্তির পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়জুড়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে ২৮১টি মামলা, দুইবার গুমের অভিযোগ, চারবার রিমান্ড এবং সাতবার গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা। ২০১৭ সালে শাহ আলী থানা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পান সাজ্জাদুল মিরাজ। পরে ২০২১ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীবান্ধব অবস্থানের কারণে দ্রুতই আলোচনায় আসেন দলের ভেতরে। ২০২২ সালে তেজগাঁও জোনের টিম লিডারের দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকারবিরোধী আন্দোলনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে তার নেতৃত্ব আলোচনায় আসে। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন সাজ্জাদুল মিরাজ। নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখা, মাঠে সক্রিয় থাকা এবং ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। পল্লবী থানা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল হোসেন বাপ্পি বলেন, “মিরাজ ভাই সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে থাকেন। এজন্য মাঠপর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।”
কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির জন্য একজন মানুষ কত ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, মিরাজ ভাইয়ের জীবনের গল্প শুনলে সেটা বোঝা যায়।” এদিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন,“রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় না, এটা আদর্শের জায়গা। অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু রাজপথ ছাড়িনি। গত ১৭ বছর দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি।



