রংপুর,

উৎসবের চেয়ে দেশ বড়

প্রকাশিত: 6:07 PM, September 2, 2026

মোহাম্মদ রাজন মিয়া

যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানেই সাধারণত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, বিশাল জনসমাবেশ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজপথে মিছিল, সমাবেশ কিংবা নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তি ও জনপ্রিয়তা প্রদর্শন করা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খুবই স্বাভাবিক বিষয়।

কিন্তু বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন কিংবা বড় ধরনের জনসমাবেশের পরিবর্তে জাতির মহান নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়েই পালিত হয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

একবার ভেবে দেখা যেতে পারে, বিএনপি চাইলে কি এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার রাজপথে বিশাল জনসমাবেশ করতে পারত না? নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তা প্রদর্শনের জন্য ব্যাপক আয়োজন করতে পারত না? অবশ্যই পারত। কিন্তু সেই পথ বেছে না নিয়ে সংযমের পথ বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে বাস্তবতা রয়েছে, সেটিও আমাদের বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো কঠিন। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন, লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়ম দেশের অর্থনীতিকে যে অবস্থায় নিয়ে গেছে, সেখান থেকে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠতেই পারে, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন কতটা জরুরি? যখন মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে, যখন রাষ্ট্রকে অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তখন রাজনৈতিক উৎসবের চাকচিক্যের চেয়ে দায়িত্বশীলতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর এখানেই একজন রাষ্ট্রনায়কের চিন্তার সঙ্গে একজন সাধারণ রাজনীতিকের চিন্তার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জনাব তারেক রহমানের কাছে যদি সত্যিই সবার আগে বাংলাদেশ হয়ে থাকে, তাহলে দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জাঁকজমকের পরিবর্তে দেশের মানুষের স্বার্থ, অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কথা সামনে রাখার এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন। রাজনৈতিক দল একটি রাষ্ট্রের অংশ। কিন্তু রাষ্ট্র কোনো দলের চেয়ে বড়। আর দেশের মানুষের স্বার্থ সব রাজনৈতিক হিসাবের ঊর্ধ্বে।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন তাই নিছক একটি কর্মসূচি নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও বটে। উৎসবের চেয়ে দেশ বড়, দলের চেয়ে বাংলাদেশ বড়।

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শেষ পর্যন্ত শুধু অতীতের গৌরব স্মরণ করার দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করারও সুযোগ। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ই হোক এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অঙ্গীকার।

কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো দলের সবচেয়ে বড় অর্জন তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের আকার নয়। দেশের মানুষের জীবনে সেই দলের অবদানই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

লেখক: আহ্বায়ক সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল

  • এই বিভাগের সর্বশেষ