পাড়া শুরু হয়েছে হাঁড়িভাঙা আম :বাণিজ্য সম্ভাবনা ৩০০ কোটি
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের বেধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আজ থেকে পাড়া শুরু হয়েছে রংপুরের সুস্বাদু ও রসালো হাঁড়িভাঙা আাম। বাজারে সর্বত্র এখন পাওয়া যাবে জিআই পণ্য স্বীকৃত এই আম। আর এই আমকে কেন্দ্র করে এবারে রংপুর অঞ্চলে ৩০০ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোর থেকে আম চাষিরা আম পাড়া শুরু করে। সকাল থেকেই পদাগঞ্জ ও রংপুরের পাইকারী হাঁড়িভাঙা আমের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এই আম। প্রথম দিনেই জমজমাট আমের বাজার। ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতি আর তাদের হাঁক ডাকে প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে আমের বাজার। প্রথম দিনে বেশি সরবরাহ থাকায় আমের মন সর্বনিম্ন একহাজার থেকে একহাজার সাতশ পর্যন্ত পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্য অনুযায়ী, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো। এর মধ্যে ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আম প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন হবে এবার। সব কিছু ঠিক থাকলে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আমের বানিজ্য হবে বলে জানিয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে আম পাড়াকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে আম চাষি, ব্যবসায়ী, পরিবহণের জন্য রিকশা-ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও হাঁড়িভাঙার ফলন নিয়ে আশাবাদী চাষিরা। আঁশবিহীন এবং অত্যন্ত সুমিষ্ট হওয়ায় এই আম মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
চাষিরা বলছেন, হাঁড়িভাঙা আম পাকতে ধরলে, এটি তিন-চার দিনের বেশি রাখা যায় না। তাছাড়া সংরক্ষণের কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। তবে এই আম সংরক্ষণের সঠিক প্রক্রিয়া থাকত, তাহলে সময় নিয়ে আম বাজারজাত করলেও অসুবিধা হতো না। বরং সংরক্ষণ করা গেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হতো। তারপরও সব কিছু ঠিক থাকলে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে শুরু হয়েছে হাঁড়িভাঙা আম পাড়া। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ সহায়তা করা হয়েছে।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া হাঁড়িভাঙা আম আজ ১৫ জুন থেকে পাড়া শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হবে। যাতে এই আম বাজারজাত করতে এবার যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেই দিক ভালো ভাবে দেখা হবে। বিশেষ করে পরিবহন খাত নিয়ে যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



