১৮ বছর আত্মগোপনে থেকেও রক্ষা হলো না হত্যা মামলার আসামী ওয়াহেদুলের

Editor

প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৩

১৮ বছর আত্মগোপনে থেকেও রক্ষা হলো না হত্যা মামলার আসামী ওয়াহেদুলের

 

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর॥ দীর্ঘ ১৮ বছর আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়াহেদুল ইসলামের। অবশেষে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার হয়েছে র‌্যাবের হাতে। গ্রেফতার ওয়াহেদুল ইসলাম রংপুর নগরীর শেখটারী এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে।

রোববার (২২ জানুয়ারী) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব ১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মাহমুদ বশির আহমেদ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সুত্রে জানা যায়, গত ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ওয়াহেদুল ইসলাম (৩৫) সহ তার সহযোগীদের সাথে নিয়ে তার প্রেমিকাকে বাড়ী থেকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় রংপুর জেলার পরশুরাম থানা গজঘন্টা ওমর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে ভিকটিম মইনুল ইসলাম বাঁধা প্রদান করে। এতে অভিযুক্তরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বুকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাতের মাধ্যমে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে জনসাধারন রক্তাক্ত অবস্থা দেখে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পথিমধ্যে মারা যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে রংপুুর জেলার গঙ্গাচরা থানায় মামলা নং-২১, তারিখ-২৫/১২/২০০৪ খ্রিঃ, ধারা-৩০২ দন্ডবিধি মামলা দায়ের করে। পরবর্তিতে ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালত ধারা-৩০২ দন্ডবিধি, জিআর নং-৭৪৮/৪ ধারার অপরাধে অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে ও ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করে।
এদিকে হত্যা ঘটনার পর পরই ওয়াহেদুল ইসলাম বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পরিচয়ে আত্মগোপন করে। এভাবে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়াহেদুল ইসলাম (৩৫) দীর্ঘ ১৮ বছর আত্মগোপনে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক ওয়াহেদুলের সন্ধানে র‌্যাব মাঠে নামলে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে আসামীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং ২১ জানুয়ারী রাতে র‌্যাব ১৩ ও র‌্যাব ১ এর যৌথভাবে ঢাকার তুরাগ থানাধীন ফ্লাট নং-০১, শাহ মখদুম রোড, সোনাগাঁও জনপথ রোড, সেকটর-১২, উত্তরা, মডেল টাউন এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব ১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, গ্রেফতার ওয়াহেদুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মইনুল ইসলামকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বুকে উপর্যুপরি আঘাতের মাধ্যমে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে রংপুর জেলার পরশুরাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।