বদরগঞ্জে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন

Editor

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২২

বদরগঞ্জে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন

নুরুন্নবী নুরু,রংপুর প্রতিনিধিঃ যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে এক কাপড়ে বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে তালাকের হুমকি দেয় যৌতুকলোভী স্বামী।

ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের যাদু নগর মহল্লায়। গত ২ নভেম্বর বুধরার দুপুরে যৌতুকলোভী স্বামী সাদ্দাম হোসেন স্ত্রী সালমা খাতুনকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ী থেকে এক কাপড়ে তাড়িয়ে দেয়। বদরগঞ্জ পৌর শহরের শাহাপুর মাস্টারপাড়া মহল্লার মাহবুবার রহমান হেলালের কলেজ পড়ুয়া কন্যা মোছাঃ সালমা খাতুন এর বিগত ১১ অক্টোবর ২০১৩ সালে দুই লক্ষ একশত এক টাকা দেনমোহর ধার্য্যে ইসলামী শরাহ্ শরীয়ত ও রেজিস্ট্রী কাবিনমুলে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ড যাদু নগর মহল্লার আঃ হামিদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন সোহাগের বিবাহ হয়। বিবাহের পর মেয়ে জামাতার দাম্পত্য জীবন সুখময় ও কল্যাণার্থে নগদ উপঢৌকন স্বরুপ দুই লক্ষ টাকাসহ ঘরের আসবাবপত্র ও অলংকারাদি প্রদান করে মেয়ের বাবা। গৃহবধূ সালমা খাতুন জানান, বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্বামী সাদ্দাম হোসেন তার বাবা আঃ হামিদ, মা সুফিয়া বেগম,বড় ভাই সোহেল রানা, বড় বোন হোসনেয়ারা বেগম হ্যাপি ও খাদেমুল ইসলাম উষ্কানী দিয়ে বলে আমার স্বামীকে যে, তোর স্ত্রীকে বল বাপের বাড়ী থেকে মর্ডান হারবালের ব্যবসার জন্য দুই লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে। অসহায় বাবার পরিবারের কাছ থেকে দাবীকৃত যৌতুকের দুই লক্ষ টাকা আনতে অস্বীকার করায় সালমা খাতুনের উপর শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন দিনের পর দিন চালিয়ে যায়। এরইমধ্যে যৌতুকের টাকা না দিতে অস্বীকার করা সালমা খাতুনকে প্রায় তালাক দেওয়ার হুমকি দিতো অর্থলোভী স্বামী সাদ্দাম হোসেন। সালমা খাতুনের বাবা মাহবুবার রহমান হেলাল বলেন, আমার মেয়ের ঘর সংসার করাকালে একটি কন্যা সন্তান ও একটি ছেলে সন্তানের জন্য হয়। জামাই সাদ্দাম হোসেন মডার্ন হারবাল এর ব্যবসা করে তাই অসৎ প্রকৃতির মনোভাব নিয়ে আমার মেয়ে সালমা খাতুনকে নিঃসন্তান করবে বলেই গর্ভাবস্থায় জামাই নিজে হারবালের ঔষধ আমার মেয়ে জোর করে খাওয়ায়। ফলে আমার মেয়ের সন্তান দু’টি অকালে মৃত্যুবরণ করে। আমার মেয়ে সন্তানের শোকে কাতর হলে আমার মেয়ের উপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। শত অত্যাচার করা শর্তেও নিরবে সংসার করেন। তিনি আরো বলেন মেয়েকে নির্যাতন করে বাড়ী থেকে বেরকরে দেয় তারা।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও যৌতুকলোভী স্বামীর সাদ্দাম হোসেন সর্বশেষ পৌরসভায় শালিস বৈঠকে উপস্থিত হয়ে। সেখানে সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ্যে সকলের সামনে বলেন ওই মেয়েকে নিয়ে সংসার করবে না। তখন শালিস পন্ড হয়ে যায়। আপোষ মীমাংসার অপেক্ষায় থেকে ব্যর্থ হয়ে সালমা খাতুনের বাবা বদরগঞ্জ থানায় যৌতুকলোভী জামাই সাদ্দাম হোসেনসহ ৬ জনের নামে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। থানায় অভিযোগ করার পর থেকে প্রতিনিয়ত অসহায় পরিবার কে বিভিন্ন ভাবে যৌতুকলোভী স্বামী সাদ্দাম হোসেনসহ তার লোক জন হুমকি ধামকি ও হয়রানীর শিকার করছে।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্তর জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে ঘটনার সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।