মিঠাপুকুরে পুলিশের অভিযানে ৭৩ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার: আটক -৪
মিল্লাত হাসান:
রংপুরের মিঠাপুকুরে যাত্রীবাহি একটি নৈশকোচে অভিযান চালিয়ে ৭৩ বোতল ফেনসিডিলসহ চারজনকে আটক করেছে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ। এসময় কৌশলে ফেনসিডিলগুলোর প্রকৃত মালিক নাজমুল হোসেন পালিয়ে যায়। যাত্রীবাহি বাসটি রংপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিলো। বাসটিতে তল্লাশি করে বাসের ড্রাইভার,হেলপার, সুপার ভাইজারসহ চারজনকে ৭৩ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাজমুলের সহযোগী হিসেবে তারা যাত্রীবাহি বাসে মাদক পরিবহন এবং বিক্রির কথা স্বীকার করে।
মঙ্গলবার (১১-ফেব্রুয়ারি) বিকাল আনুমানিক ৪ঃ৫৫ মিনিটে উপজেলার ঢাকা রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর ওভারব্রীজের নীচে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিঠাপুকুর থানা পুলিশের একটি চৌকসদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপারেশন (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকের দিকনির্দেশনায় এসআই ইমরানের নেতৃত্বে তার সঙ্গীয় ফোর্স এসআই বেলাল,এসআই হাসান,এএসআই গোলাম মাহমুদ, এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানসহ অপু ক্লাসিক নামীয় একটি নৈশকোচ যাহার রেজিষ্ট্রেশন ঢাকা মেট্টো ব-১৪-৩৬৯৪,নম্বর বাসটিতে তল্লাশি চালায়।
অপু ক্লাসিক নাইটকোচটিতে তল্লাশিকালে ৭৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এসময় কৌশলে ফেনসিডিলগুলোর প্রকৃত মালিক মর্ডাণ মোড় এলাকার বাস কাউন্টার ব্যবসায়ি নাজমুল হোসেন যাত্রী পরিচয়ে সটকে পড়েন এবং উক্ত ফেনসিডিলগুলো পরিবহনে এবং ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় রাজবাড়ী জেলা সদরের বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মুকিম বিশ্বাসের পুত্র বাস কন্টাকটার নায়েব আলী (৫২) বাস ড্রাইভার জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার সানাইবান্ধা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) বাসের সুপার ভাইজার দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেব পুর গ্রামের মৃত ইউসুফ উদ্দিনের পুত্র মোঃ মজিবর রহমান (৪৪) এবং বাসের হেলপার আলামিন ভূঁইয়াকে (৫০) আটক করা হয়। মাদক পরিবহনে অপু ক্লাসিক বাসটি ব্যবহার করায় বাসটি জব্দ করা হয়।
বাসটি জব্দ করে আটক চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে দিবাগত রাতে একটি মিঠাপুকুর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তবে নাজমুলের নামে মামলা না হওয়ার কারন সম্পর্কে সুস্পষ্ট জানা না গেলেও রাতে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক মর্ডাণ মোড়ে নাজমুলের সঙ্গে একটা চুক্তি করে ত্রিশ হাজার টাকা গ্রহন করছিলেন বলে একাধিক ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার সত্যতা জানতে নাজমুলের মুঠোফোন কল দেয়া হলে তিনি ঢাকায় ছিলেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক,নিরস্ত্র ,অপারেশন আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,বাসটি জব্দ করে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১২ এপ্রিল) তাদের আদালতে প্রেরন করা হবে। এসআই ইমরান হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। তবে অভিযুক্ত এএসআইয়ের বিষয়ে তাকে জানালো হলেও,তিনিও সন্দেহ পোষণ করেন।



