রংপুরে জমে উঠেছে গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলা
জেলা প্রতিনিধি, রংপুর: জমে উঠছে মাসব্যাপী শুরু হওয়া রংপুর গ্রামীণ ও কুটির শিল্পমেলা। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও বড় পরিসরে
ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপরা ভীড়ে সরগরম মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় নারী উদ্যোক্তাসহ চামড়া পাটজাত পোষাক হস্ত শিল্প ও কারুপন্য নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বাহারী পণ্য কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর সেনানিবাসের আওতাধীন নিশবেতগঞ্জে বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়াস স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে মাসব্যাপী এই মেলায় রংপুর শহর ও শহরতলী ছাড়াও দূর-দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদেরও ভিড় বাড়ছে প্রতিদিনই। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এই মেলার আয়োজন করেছে বেনারসি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে গ্রামীন ও কুটির শিল্পমেলা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যসামগ্রী নিয়ে স্টল দিয়েছেন মেলায়। এই মেলার মুল স্থানে রয়েছে ৬৮ টি স্টল এবং বাইরে রয়েছে আরো ৫০ টি স্টল। বিশাল মাঠ নিয়ে আয়োজিত মেলায় বিদেশি পণ্যের চেয়ে দেশীয় পণ্যের ব্যাপক সমাহার ঘটেছে। এসব স্টলে মিলছে বাহারি শোপিস, জুয়েলারি সেট, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্পসহ রকমারী পন্যের সমাহার। বিশেষ করে নারীদের গহনার পাশাপাশি পুরুষদের কোট-প্যান্টের দোকানও রয়েছে। আর শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে নাগরদোলা, ম্যাজিক নৌকা, মোটরসাইকেল খেলা, ট্রেনসহ মজাদার বিনোদনমূলক ব্যবস্থা।
এই মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে রংপুর বদরগঞ্জের জনপ্রিয় দি নিউ চলো বাংলাদেশ সার্কাস। সার্কাসে রয়েছে নিত্য নতুন খেলা ও ঢাকাই সিনেমার শিল্পীদের পরিবেশনা।
গ্রামীণ ও কুটির শিল্পমেলার বিশেষ দিক হলো ২০ টাকার প্রবেশ টিকিটের উপর রয়েছে প্রতিদিনের পুরুস্কার। যার মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আরো ৫-৭ টি মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য আরো ৫৫ টি পুরস্কার রয়েছে।
কুটির, বুটিকসহ বিভিন্ন দোকানীরা এতে অংশ নেয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেছে রংপুর গ্রামীণ ও কুটির শিল্পমেলা। অসংখ্য দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন পর রংপুরের এই গ্রামীন ও কুটির শিল্প মেলায় ব্যবসা ভালো হওয়ার আশা করছেন আয়োজকরা।
মেলায় ঘুরতে আশা দর্শনার্থী রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর রংপুরে একটি বড় মাঠে এবং নিরিবিলি পরিবেশে একটি মেলা হচ্ছে। বড় পরিসরে হওয়ায় রিলাক্সমুডে মেলায় ঘুরে ঘুরে বিনোদন যেমন নেয়া যাচ্ছে তেমনি দেখেশুনে কেনাকাটা করা যাচ্ছে।
অন্য আর এক ক্রেতা সামছুল আলম বলেন, রংপুরের শহরের স্বল্প জায়গায় মেলা হওয়ার কারনে সার্কাস থাকে না। এবারে এই মেলায় সার্কাস আছে। ভালোই লাগলো সার্কাস দেখে। এসময় তিনি মোটরসাইকেল খেলার প্রশংসাও করেন।
মেলার আয়োজক সদস্য বাদল মিয়া বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে গ্রামীন ও কুটির শিল্পমেলার আয়োজন করা হয়েছে। রংপুর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিভাগীয় নগরীতে নিরিবিলি পরিবেশে বড়পরিসরে মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। রংপুরের মানুষ শান্তি প্রিয়। তাদের অংশগ্রহণে মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সকল বয়সী মানুষের কথা চিন্তা মাথায় রেখে মেলার পরিসর সাজানো হয়েছে। এসময় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে মেলা শেষ করা যায়।



