ভোটারদের ভোট প্রদান নিশ্চিতে ইভিএম মেশিনে দশ আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে… .. . . . রংপুরে নির্বাচন কমিশনার

Editor

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২৩

ভোটারদের ভোট প্রদান নিশ্চিতে ইভিএম মেশিনে দশ আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার
পরিকল্পনা রয়েছে… .. . . . রংপুরে নির্বাচন কমিশনার

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর॥ নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ আহসান হাবিব খান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল ভোটারদের ভোট প্রদান নিশ্চিতে ইভিএম মেশিনে দশ আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরেও সমস্যা হলে নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি স্বাপেক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা শতকরা ১ ভাগ ভোটারকে ভোটপ্রদানের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারী) দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি সংশোধন কর্তৃপক্ষের করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ ধীরগতিতে কেন হচ্ছে তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমি কুমিল্লায় ১৫ থেকে ২০টি কেন্দ্রে মক ভোটিংয়ে দেখেছি। এতে সর্বনিম্ন ৩০ সেকেন্ড ও সর্বোচ্চ ৫১ সেকেন্ড লাগে ভোট দিতে। আমরা যদি ইভিএমে ভোটপ্রদান বিষয়টি ভালভাবে ভোটাদের বোঝাতে পারি তবে ভোট প্রদানে ধীরগতি থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভোটার হালনাগাদ শেষ হয়েছে। এর সংশোধনের যে আইন-কানুন রয়েছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। আমরা একটি নিখুঁত, ভাল ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকার মাধ্যমে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে চাই। নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ আহসান হাবিব খান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে ভোট। ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো নির্ভূল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, বিরোধীতা থাকবে, প্রত্যেক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সেই কল্পে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোন এক সময় দেশে এক কোটির উপরে ভূয়া ভোটার ছিল। ভূয়া ভোটার যেন না থাকে সেলক্ষ্যে নির্ভূল তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দেশে ৫’শও বেশি ইভিএমে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে। কোথাও একটা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া কিংবা হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে নাই। কারণ ইভিএমে ব্যালট নেই তাই লুটপাট করে নির্বাচন বানচাল করা, সিল মারা কোন ব্যবস্থা নেই। এটি আমাদের সকলের জন্য বিরাট প্রাপ্তি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাজে ভূলভ্রান্তি থাকতে পারে। আমরা সমালোচনায় বিশ্বাসী। প্রত্যেক জনগণের চোখই হলো আমাদের সিসি ক্যামেরা। নোয়াখালীতে নির্বাচনে একজনের ভোট অন্যজন প্রদান করার অপরাধে আমরা এক মহিলাকে জেলে দিয়েছি। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে লেখা হয়েছে। অস্বচ্ছতার জন্য গাইবান্ধা নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কমিশন বদ্ধ পরিকর।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, হলফনামায় প্রার্থীরা তাদের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেন। নির্বাচনের কয়েক বছর পর প্রার্থীর সম্পদ নিয়ে নানা তথ্য আসে। সে বিষয়টি নিয়ে  দুদক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও এনবিআর কাজ করবে। নির্বাচন
কমিশন নয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক আব্দুল বাতেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিনসহ নির্বাচন কর্মকর্তারা।